Friday, November 25, 2011

দাম্পত্য সুখ

" দূর হতে আমি তারে সাধিব
গোপনে বিরহ ডরে বাঁধিব
বাঁধন বিহীন সেই যে বাঁধন অকারণ..."


আমি চোখ খুললেই আকাশ দেখি
কারণ মাটি আমায় শিকল পড়ায়নি,
তবু আমি মাটিকেই আঁকড়ে ধরে থাকি,
কারণ আকাশ নিজে এসে আমার গা ছুঁয়েছে।
আমি এক পৃথিবী দূর থেকে
তার আওয়াজ শুনি..
কারণ আমার একটা ভেতর আছে,
আর উষ্ণতা-
আমায় আমৃত্যু ঘিরে রাখবে।
আমি রেল লাইন পেরোই,
২ নং প্ল্যাটফরমে বসে সন্ধ্যে নামতে দেখি,
সূর্যটা মৃত্যুর আগে আমায় সন্ধ্যেকে ভালবাসতে চেনায়,
আমার সন্ধ্যে হলেই বড় ভাল লাগে-
কারণ দিনটা মরে যায়।
রাত বাড়ে আর তরল বোতলের তলানিতে পৌঁছায়,
আমি টলতে টলতে বাড়ি ফিরি।
Black cormorantগুলো অনেক উঁচু দিয়ে উড়ে যায়-
মনের কথা মনে চেপে রাখে,
আকাশ ওর কথা জানে,
আর বাড়ি ফিরে এসেই সাংসারিক কলহ।
আমিও বাড়ি ফিরি,আমার ঘরের কোণের
প্রিয় জানলাটার পাশে বসে থাকি খানিকক্ষণ-
আমার দাম্পত্য কলহ নেই,
কারণ আমি দাম্পত্যের রং মেখে থাকি না।
আমি জড়াতে চাইনি,
তাই আমি দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ
কারণ আমার হারাবার কিছু নেই......
তাইতো আমি মুক্তির স্বাদ অনুভব করি।।

Saturday, October 29, 2011

বিসর্জন

আমার বিসর্জনের গল্প শুনবে তুমি..
সে ছিল এক আপনভোলা মানুষ
গঙ্গার পাড় থেকে একতাল আমায় কুড়িয়ে নিল একদিন,
নিয়ে চলল ঘরে-
তারপর ভেজা আঙুলের ছাপে গভীর হল রেখা
চুইয়ে পড়া আদর শরীরে প্রবেশ করাল নারীত্ব,
ফুলের গন্ধ, ধূপের গন্ধ রক্ত মাংসের গন্ধকে ধুইয়ে দিল
দেবী প্রতিমা করে রাখতেই পারতো কাছে-
একদিন কি ভূত মাথায় চাপল কে জানে
বিসর্জন দিয়ে এল-
সেই থেকে গঙ্গার পাড়ে পরে আছি
ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখি
এ ঘাটে তোমার রোজ আসাযাওয়া,
কেমন করে আবার ছাপ ফেললে বলতো
মনের দাগের রঙগুলো স্নেহের তুলিতে বুলিয়ে
সাজাতে শুরু করলে
তোমার ঘরে নিয়ে যাবে না আমায়?
ঘাটের ভিজে হাওয়া, ঢেউয়ের শব্দে
আমার জন্মাতে বড় ভয় করে
না হয় প্রতিমা বানিয়ে রেখে দিয়ো
তোমার কুলুঙ্গি ভরা ধূপের গন্ধে
সে কি চললে কোথায়?....
এখনো শুকোতে যে ঢের দেরী,
তোমার ঘরে নিয়ে যাবে না আমায়?
চললে কোথায়.....
মাঝিরা বলছিল আজ রাতে জোয়ার আসবে

চলে গেলে........
অসম্পূর্ণ প্রতিমার বিসর্জন দেখেনি
এ ঘাটের মানুষ-
আজ দেখবে।।

Friday, September 2, 2011

জন্মদিনে

যে আলো ভিজিয়ে দিয়েছিল আমায়
আর সেইসব সাহসী স্বপ্ন, তোমার শেষ কয়েকটা রঙ-
এ শহরের কত গলিঘুঁজি থেকে খুঁজে খুঁজে জড়ো করেছি,
সে রঙ আলোয় ভিজে মিলেমিশে সাদা হয়ে গেছে।
আমার দক্ষিণের জানালার নির্গন্ধ ফুলগুলো-
আর ঝরে না, ওরা আজীবন গন্ধ পাঠাবার
প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ঘুমের গভীরে জেগে থাকা প্রেম
আজ ও স্নেহ চুম্বন হয়ে কপাল স্পর্শ করে।
তুমি ই বল-
যে নদীর জন্ম হয় উৎস থেকে
উৎস কি পারে তাকে বেঁধে রাখতে?
তাই, আমি মৃত্যু জানিনা, শুধু জন্ম দিতে পারি,
আমি ধ্বংস জানিনা, শুধু সৃষ্টি করতে পারি।
আরও একবার জন্ম নিলে আজ,
একটা নতুন জীবন -তাই সৃষ্টির কবিতা।
অমরত্মের যে ভ্রূণ গেঁথে আছে আমার জরায়ুতে,
তার প্রতিটি স্পন্দন তোমাকে আরও জীবনীশক্তি দিক।
জানি কোটি আলোকবর্ষ দূরত্ব,
তবু সাঁঝবাতি দেখি আমি পশ্চিম আকাশে,
জেগে থেকো শতবর্ষ
আমার দুচোখ জেগে রইলো।।

Tuesday, August 9, 2011

সুখটান

রঙচঙে প্যাকেটের মোড়ক খুলে বের হল
আস্ত একটা সিগারেট,
আপাদমস্তক ঝকঝক করছে দেহটা,
নতুন গন্ধ নতুন মদমত্ততা আনে।
উসখুস করছে প্রেমিকের হাত
আনকোরা নতুন ঠোঁটটা
স্পর্শ করে আধাজ্বলা পুরনো ঠোঁটটাকে-
বহু স্মৃতি বিস্মৃতির গন্ধ ভেসে আসে, প্রেমিকের
ছত্রিশ হাজার ব্যর্থ কবিতার মাঝে,
তারপর ... তারপর একটু একটু করে
পুড়তে শুরু করে দেহটা
পা ছাড়িয়ে বুকে উঠে আসে
এক একটা সুখটান, আর একটু একটু করে
কাঁচা চামড়ার পোড়া গন্ধে ভরে যায় ঘরটা-
এক একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস উঠে যায় শূন্যে
পাক খেয়ে মিলিয়ে যায় বাতাসে,
শুধু পরে থাকে হলুদ হয়ে যাওয়া
অর্ধদগ্ধ দেহটা-
ঘরের ই কোন কোণে,
ছাইয়ের স্তূপের উপর বসে প্রেমিক
হাতড়ায় রঙচঙে প্যাকেটটাকে
আবার করে......

Monday, August 8, 2011

নিঃসঙ্গতার বন্ধুর উদ্দেশ্যে

নিঃসঙ্গতার বন্ধু হল
ভেসে আসা গঙ্গার বাতাস।
বাতাস কি আগে বয়নি?
বয়েছিল হয়তো,
নিঃসঙ্গতা টের পায়নি,
আকাশ ছুঁতে চায়নি কোনোদিন,
মাটিটুকু কি ধরে রাখতে পারবে?
সে গল্প আজ থাক,
থাক তবে-
শুধু দুচার টুকরো কথা,
মালা গেঁথে চলেছে অবিরাম-
একটা পুড়ে যাওয়া স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে
একটা একটা করে নরম পালক জমছে।।

Tuesday, June 28, 2011

A new day a new beginning....


"ইচ্ছে গেল গুল্মহলের চৌকাঠে
আদর হাঁটে মন কেমনের পথ ঘাটে
চেনা মেঘের বৃষ্টি এল স্নানের কিনারায়

সে মুখ ছিল নাগালভর সেই বাতাসে ভেতরঘরে
নরম পালক বিছিয়ে যেত রঙরঙিন"